প্রফেসর কণক বরন বরুয়া (Professor Kanak Baran Barua) একজন প্রখ্যাত বাঙালি গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং বিশেষজ্ঞ, যিনি বৌদ্ধ ধর্ম, বৌদ্ধতাত্ত্বিক ইতিহাস এবং দক্ষিণ এশিয়ার বৌদ্ধ ঐতিহ্য বিষয়ে গভীর গবেষণা করেছেন। তিনি বাংলাদেশের একজন অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বৌদ্ধ চিন্তাবিদ এবং অধ্যাপক হিসেবে পরিচিত, এবং বৌদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির বিষয়ে তার ব্যাপক গবেষণা ও লেখালেখির জন্য পরিচিত। প্রফেসর বরুয়া ১৯৪০ সালের আশপাশে চট্টগ্রাম বিভাগের একটি বৌদ্ধ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, এবং তার জীবনের প্রথম দিক থেকেই তিনি বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর আগ্রহ প্রদর্শন করেন। তিনি বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও তাত্ত্বিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। প্রফেসর কণক বরন বরুয়া তার জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় করেছেন বৌদ্ধতত্ত্ব এবং বৌদ্ধ পুরাতত্ত্ব নিয়ে গবেষণার জন্য, এবং এর মাধ্যমে তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তার অন্যতম প্রধান বই হলো **"দ্য স্প্লেন্ডিড আর্কিওলজিক্যাল হেরিটেজ অব বৌদ্ধিজম ইন বাংলাদেশ অ্যান্ড সাউথ এশিয়া" (The Splendid Archaeological Heritage of Buddhism in Bangladesh & South Asia)**, যা দক্ষিণ এশিয়ার বৌদ্ধ পুরাতত্ত্ব এবং বাংলাদেশের বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সাফল্য এবং গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো বিশ্লেষণ করে। এই বইতে প্রফেসর বরুয়া বৌদ্ধ ধর্মের প্রথম যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন বৌদ্ধ পুরাতাত্ত্বিক স্থান, মন্দির, স্তূপ, ভাস্কর্য এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক নিদর্শন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি বৌদ্ধ ধর্মের গুরুত্ব এবং এই অঞ্চলের প্রাচীন বৌদ্ধ ঐতিহ্যকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছেন, যা দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের অমূল্য অংশ। তার গবেষণা ও লেখা বাংলাদেশের বৌদ্ধ ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রফেসর বরুয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছেন যে, দক্ষিণ এশিয়ার বৌদ্ধ ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের বৌদ্ধ ঐতিহ্য একে অপরের সাথে সম্পর্কিত, এবং তাদের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। তার কাজ বিশেষত বৌদ্ধ পুরাতত্ত্ববিদ, ইতিহাসবিদ এবং সাংস্কৃতিক গবেষকদের জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।